রোজা যেভাবে বরকতময় ও পবিত্রতা

সকল প্রশংসা আল্লাহর। যিনি আমাদের মাঝে রমজান উপহার দিয়ে জীবনের সকল অকল্যাণ ও অপবিত্রতা হতে মুক্ত হবার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমারা তো ঠিকঠাক রোজা রাখছি, কিন্তু সবাই কি জীবনের দুর্ভোগ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা যে জড়িয়ে পেঁচিয়ে আছি তা থেকে মুক্ত হতে পারছি? আমরা রোজা পালনের মাধ্যমে কতটুকু সুস্থ জীবন যাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারছি? আসুন জেনে নেয়া যাক এ বিষয়ে রাসূল আমাদেরকে কি কি নির্দেশনা দিয়েছেন।
১. রোজা আমাদেরকে অকল্যাণ ও অনৈতিক জীবনের থেকে বাঁচতে শেখায়: এ বিষয়ে কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা মুত্তাকি বা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
২. রোজা অন্তরের সকল কলুষতা মুক্ত হবার তাগিদ দেয়: এ বিষয়ে রাসুল সা. বলেন- ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে পারে না, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)
৩. রোজা আত্মমর্যাদা বোধ সৃষ্টি করে: এ বিষয়ে রাসূল স. বলেন- রোজা জাহান্নামের একটি ঢালস্বরূপ; তাই রোজাদার যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অজ্ঞের মতো আচরণ না করে।
(সহিহ বুখারি: ১৮৯৪; সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
৪. রোজা বরকত ও পবিত্রতা লাভের উপায়: এ বিষয়ে রাসূল স. বলেন- ‘যখন তোমাদের মধ্যে কেউ রোজায় ইফতার করে, সে যেন খেজুর কিংবা খোরমা দিয়ে ইফতার করে। কারণ, তা হচ্ছে বরকত। আর তা না হলে পানি দিয়ে করবে, তা পবিত্রকারী।’ (জামে তিরমিজি, ২য় খণ্ড,হাদিস ৬৯৫)।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রমজানে যথাযথ রোজা আদায়ের মাধ্যমে অফুরন্ত বরকত ও পবিত্রতা অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
