নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ১৪ ফেব্রুয়ারি

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইসির এক কর্মকর্তা জানান, সব ঠিক থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা বা ১টার দিকে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। যদি রাতের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সকালেও হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশের ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারিভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরের ধাপ এ ফলাফলের গেজেট প্রকাশ।
১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি। সারা দেশের রিটার্নিং অফিসগুলো থেকে এরই মধ্যে বিস্তারিত ফলাফল ইসিতে পৌঁছালেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরর স্বাক্ষর সম্বলিত আসনভিত্তিক ফলাফলের মূল প্রামাণ্য দলিল এখনো পৌঁছায়নি। এ সব দলিলের হার্ড কপি সরাসরি বহন করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বিশেষ দূতের কমিশনে আসার কথা রয়েছে। সেখানে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) কমিশনের পাঁচ সদস্যের স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজি প্রেসে পাঠানো হবে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং কমিশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হার্ড কপি হাতে আসার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইনে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা কেবল কম্পাইল করছি। নামের বানানসহ প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। এমনকি কিছু আসনে ভোটারের চেয়ে কাস্টিং ভোট বেশি হওয়ার তথ্যও যাচাই করা হবে।
ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি আরো বলেন, অসংগতিপূর্ণ তথ্যগুলো মূলত যোগের ভুলের কারণে হতে পারে। এবার কোনো কিছুই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ নির্বাচন কমিশন এবং সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি তথ্য যাচাই করতে সময় লাগবে, তাই আজকেই সব কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় প্রসঙ্গে তিনি জানান, সব ঠিক থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা বা ১টার দিকে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। যদি রাতের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সকালেও হতে পারে।
ইসির কাছে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল থাকার পরও বিলম্বের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্র বণিক বার্তাকে জানিয়েছে, গেজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। কোনোভাবে কারো নামের বানান, এমনকি একটি দাঁড়ি-কমাও ভুল হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, যাতে ভুলের কোনো অবকাশ না থাকে। আর রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত ফলাফলের হার্ড কপি এক্ষেত্রে মূল দলিল হিসেবে কাজ করে। গেজেটে বিজয়ী প্রার্থীদের সম্পর্কে কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে তারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করারও এখতিয়ার রাখেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব মূলত গেজেট চূড়ান্ত করা পর্যন্ত। গেজেট হওয়ার পর সব দায়িত্ব সংসদ সচিবালয়ের কাছে চলে যায়।
এ বিষয়ে ইসির এ কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়াতে হয়। স্পিকার না থাকলে রাষ্ট্রপতি যদি কাউকে অ্যাসাইন না করেন, তবে সাধারণত প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতি বা ক্যাবিনেট কাউকেও দায়িত্ব দিতে পারেন, তবে আলাদা করে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়ার যৌক্তিকতা না থাকলে সিইসিই তা করবেন।
