একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে
জামায়াতের লাখো মানুষের সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান

২৪ঘণ্টা অনলাইন : একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত লাখো জনতার জাতীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একপর্যায়ে সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে মঞ্চে পড়ে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি উঠে কথা বলেন। গরমের কারণে অসুস্থ হন বলেও জানান জামায়াত আমির। এরপর দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কথা বলতে শুরু করে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে আবারো তিনি কথা বলে সমাবেশ শেষ করেছেন।
একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজকের সমাবেশের আয়োজন করতে গিয়ে, এখানে আসতে গিয়ে আমাদের তিন ভাই ইন্তেকাল করেছেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিন। পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদরা যদি না দাঁড়াত, তাহলে ২৪ জীবনবাজি রাখা যুদ্ধটা না হলে, আজকে যারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া করছেন, তাদের দাবিগুলো কোথায় থাকত। সুতরাং আমাদের প্রিয় শহীদদের হেয় করা যাবে না। অহংকার করা যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলকে অপমান করা যাবে না। যদিও কেউ এগুলো করে, তাহলে তাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদের রোগ বীজ বুনেছে।’
এর আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা দুইটার সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের মূল পর্ব। দলের আমির শফিকুর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল নিয়ে দলে দলে সমাবেশে যোগ দেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকায় গণপরিবহন চলাচল সীমিত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দলটির নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
মিছিল নিয়ে দলীয় স্লোগানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছেন তাঁরা। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি রাস্তার মোড়ে মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকেরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়কে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের মূল মঞ্চ করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে। ভিড়ের কারণে সমাবেশের মূল মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে অনেকেই শাহবাগ মোড়, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন সড়কে বসে পড়েন। শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসানো ডিজিটাল পর্দায় সমাবেশ দেখছেন তাঁরা।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা-উত্তর এই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে জামায়াত। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্যের পাশাপাশি গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সমাবেশ হচ্ছে। জামায়াত জানিয়েছে, এই সমাবেশে তাদের মূল দাবি হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রভৃতি।
