ঢাকায় বসছে চারজাতি নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট

দ্বিতীয়বারের মতো পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে বসছে আন্তর্জাতিক নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট- আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ১৮-২২ অক্টোবর পর্যন্ত। যেখানে অংশ নেবে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। এ উপলক্ষে আজ পল্টনের বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে হয় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। পাঁচ দিনব্যাপী এই আসরের নামকরণ করা হয়েছে সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে।
হ্যান্ডবলের এই প্রতিযোগিতা হবে রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে। যেখানে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মুখোমুখি হবে। ১৮, ১৯ এবং ২০ অক্টোবর প্রতিদিন হবে দুটি করে লিগ ম্যাচ। লিগ ম্যাচ শেষে ২১ অক্টোবর হবে ব্রোঞ্জ ম্যাচ। পরের দিন গোল্ড মেডেলের জন্য লড়বে দুই ফাইনালিস্ট। বাংলাদেশকে ফাইনালে তোলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি। তিনি বলেন, ‘এবারই আমরা প্রথমবার বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করেছি। আমাদের আশা ফাইনাল খেলব। মালদ্বীপ এবং নেপাল খেলায় অনেক উন্নতি করছে। নেপালের ৮জন খেলোয়াড় আর্মি দলের হয়ে খেলে। তারা শক্ত প্রতিপক্ষ অবশ্যই। তাই শুধু ভারতকে নিয়ে ভাবলেই হবে না।’
‘আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলব এবং ফাইনালে উঠবো—এটাই আমাদের সবার প্রচেষ্টা থাকবে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যাতে ভালো খেলতে পারি এবং দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারি।’ বলেন ইসমেতারা।
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো বলেন, ‘বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ, আমাকে মেয়েদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। অভিজ্ঞতাটি সব দিক থেকেই চমৎকার ছিল। আমরা কেবল এই টুর্নামেন্ট জেতার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের ভবিষ্যৎ ও আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলোর ভিত শক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা সঠিক পথেই আছি।’
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা থেকে দূরে, এ নিয়ে কোচ বলেন, ‘গত কয়েক বছর দলটির কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না, ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর বর্তমান মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত যে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চটা দেব। আমরা অবশ্যই ফাইনালে যেতে এবং জিততে লড়াই করব। আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো—যেমন চেষ্টা, লড়াই ও প্রতিটি বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এসব ক্ষেত্রে আমরা সেরাটা দেব।’
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে আগামী ১৮ অক্টোবর, সকাল ১১টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। উদ্বোধন এবং সমাপনী দিনে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ও চিফ কো-অর্ডিনেটর এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে জাতীয় দলকে পরিচর্যা করছি। ৯০ জন নিয়ে শুরু করে ১৭ জনকে বাছাই করেছি। আশা করি আমরা ফাইনাল খেলব। প্রতিযোগিতায় ৫টি দল আসার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তান আসতে পারছে না।’
এই টুর্নামেন্টে আসার কথা ছিল ইয়েমেনেরও। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি শেষ পর্যন্ত আর আসতে পারেনি। হ্যান্ডবল ফেডারেশন থেকে আরও কয়েকটি দেশকে আনার চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘ইয়েমেনের আসার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তারা আসতে পারেনি। আর আফগানিস্তান দলে ৫ জন ইরানের পাসপোর্টধারী ছিল, যেটা আইএইচএফ অনুমোদন করে না, তাই আমরাও তাদের দাবি মেন নেইনি। আমাদের মূল ফোকাস আসন্ন এসএ গেমস। আগের দুবার আমরা নেপালের সঙ্গে পেরে উঠি নাই, এবার গেমসে ভালো করতে চাই।’
সহ-সভাপতি গোলাম হাবিব বলেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি আগামি ১৮ থেকে শুরু হচ্ছে নেশনস ট্রফি। এটা আয়োজন করা একটা গর্বের ব্যাপার। একইসঙ্গে বড় দায়িত্ব দেশ হিসেবে। বিদেশি খেলোয়াড়েরা আসায় আমাদের মেয়েদের উন্নতি হবে আশা করি। এই আয়োজনকে সফল করার জন্য ক্রীড়া মন্ত্রনালয়, টুর্নামেন্ট কমিটির সঙ্গে ফেডারেশন যৌথভাবে কাজ করছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন।’
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম হাবীব, সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন আহম্মেদ, টুর্নামেন্ট কো-অর্ডিনেটর এম এম খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের হেড কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া এবং অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি।
প্রতিযোগিতার সকল খেলা বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল পেজ হতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। https://www.facebook.com/bdhandball.official
