ইউক্রেনকে ৬৬০ কোটি ইউরোর সামরিক সহায়তায় ইইউর সম্মতি

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রায় ৬৬০ কোটি ইউরোর সামরিক সহায়তা ছাড়তে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। হাঙ্গেরির আপত্তির কারণে ২০২৩ সাল থেকে এই সহায়তা আটকে ছিল।
২৫ সেপ্টেম্বর ব্রাসেলসে ইইউর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য এটি ভালো খবর হলেও রাশিয়ার জন্য খারাপ খবর। ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন কমিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করা হলেও ইউরোপ বরং সহায়তা বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউরোপীয় শান্তি সহায়তা তহবিলের আওতায় এই অর্থ দেওয়া হবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২০২৩ সালের মে মাসে হাঙ্গেরি এই তহবিল থেকে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ভেটো দেয়। দেশটির অভিযোগ ছিল, ইউক্রেন হাঙ্গেরির ওটিপি ব্যাংককে রাশিয়ার যুদ্ধের ‘আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। পরে ২০২৪ সালে ইউক্রেন ওই তালিকা থেকে ব্যাংকটির নাম সরিয়ে নিলেও হাঙ্গেরি ভেটো প্রত্যাহার করেনি।
নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, মোট ৬৬০ কোটি ইউরোর মধ্যে ৪৭০ কোটি ইউরো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের খরচ পরিশোধে, ১০০ কোটি ইউরো যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম কেনায় এবং ৯০ কোটি ইউরো ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।
তবে অর্থ ছাড়ের আগে প্রয়োজনীয় কিছু আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাজেটে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির মধ্যে এই সহায়তার সিদ্ধান্ত এসেছে। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশন ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আলোচনা চলছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই বাজেট সংকটের সমাধান করা জরুরি। কারণ ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে ড্রোন সরবরাহের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে দেশটির নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় ঘাটতির একটি অংশ অস্ত্র কেনার ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও জানান তিনি।
