গুদামে সার আছে, কৃষকের হাতে নেই

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দেশে সারের ঘাটতি না থাকলেও আমন মৌসুমে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিতে হচ্ছে, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে সার বিতরণব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। এর বিপরীতে সরকারি মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সংকট মূলত সারের মজুতের নয়, বিতরণব্যবস্থার জটিলতার কারণে তৈরি হয়েছে। আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সময়েই নতুন ডিলার নীতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগস্টের শুরু থেকেই আমন আবাদ পুরোদমে শুরু হয়। এ সময় কৃষকদের বিপুল পরিমাণ সার প্রয়োজন হলেও নতুন ডিলার নিয়োগ ও পুরোনো ডিলারদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে অনেক ডিলার সরকারি গুদাম থেকে আগের তুলনায় কম সার উত্তোলন করেন। কেউ কেউ সার উত্তোলন বন্ধও রাখেন।
নতুন ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬’-এ প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ তিনটি ডিলার ইউনিট রাখার বিধান করা হয়েছে। যোগ্য পুরোনো ডিলারদের বহাল রাখার পাশাপাশি নতুন ডিলার নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তি একটির বেশি ডিলারশিপ রাখতে পারবেন না।
এদিকে জুলাই ও আগস্টে ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক সার উত্তোলন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সার না তোলার অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি হিসাবে, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের অনেকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি ডিলার পয়েন্ট খালি হয়েছে। এসব শূন্যস্থান পূরণে প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ডিলারের গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কোথাও আবার বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে বিক্ষোভও হয়েছে।
সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার তদারকি ও অভিযান জোরদার করেছে। ২৮ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা, ১ হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার এবং চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনও (বিএফএ) কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি ডিলারদের নির্ধারিত সময়ে সার উত্তোলন, নিজস্ব গুদামে সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে।
