খুলশীর বাড়িতে ৬৩ বিদেশি, মিলল বিপুল ডিভাইস

২৪ঘণ্টা অনলাইন: চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই বাড়িতে অবস্থান করে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল।
১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা বসবাস করছিলেন। বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। বিদেশি নাগরিকরা তার কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে বাড়িটিতে একটি সংগঠিত অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।
দেশি-বিদেশি সহযোগীদের তথ্য: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশি ও বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব সহযোগীর কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ, যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ব্যবস্থা এককভাবে করা কঠিন হওয়ায়, এর পেছনে বড় একটি নেটওয়ার্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাড়ি ভাড়া ও পরিচয় যাচাই নিয়ে প্রশ্ন: একসঙ্গে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন এবং দেড় মাস ধরে সেখানে অবস্থান করলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ির মালিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কতটা জানতেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিকের সংখ্যা বেশি, কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন, তাদের পরিচয় ও ভিসা যাচাই কীভাবে করা হয়েছিল এবং তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন—এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে: চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় দেশি-বিদেশি মানুষের যাতায়াত তুলনামূলক বেশি। এই সুযোগকে কোনো অপরাধী চক্র ব্যবহার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত এগিয়ে গেলে ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
