দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

২৪ঘণ্টা অনলাইন: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি ১০ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ পাঠান।
১১ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান আসিফ মাহমুদ।
তিনি দাবি করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তি স্পষ্ট না করেই এমন বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
আইনি নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসংগতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও নোটিশে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতি হয়।
আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
