পশ্চিম তীরের পণ্যে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে এ ঘোষণা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রির মাধ্যমে দখলদারিত্বকে সমর্থন করতে চায় না ব্রিটিশ জনগণ।
মিলিব্যান্ড জানান, অবৈধ বসতি স্থাপন ও এর সম্প্রসারণ ঠেকাতে একটি সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ধর্মীয় প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অবশ্য উপযুক্ত ছাড় রাখা হবে।
অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারীদের সতর্ক করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা ‘জাতিগত নিধন’ চলছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার একমত। তার অভিযোগ, উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
মিলিব্যান্ড বলেন, ব্রিটিশ সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবৈধ। দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ, স্থায়ী সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণেই যুক্তরাজ্য এমন অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানান তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়; বরং অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি বা সহিংসতাকে সমর্থনের অভিযোগে আরও কয়েকজন উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে বিদ্যমান বৈশ্বিক মানবাধিকার নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে জেরুজালেমের পূর্বে প্রস্তাবিত ই১ বসতি প্রকল্পের উন্নয়ন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
