ইয়েমেনে সংঘর্ষ, নিহত ১৪১

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে একদিনেরও কম সময়ে অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সরকারি বাহিনীর ৮৪ সৈন্য এবং হুথিদের ৫৭ যোদ্ধা রয়েছেন বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত তায়েজ, হোদাইদা ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন ফ্রন্টে ব্যাপক লড়াই হয়। সরকারি বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত বেশিরভাগ সৈন্য রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধাকে আটকের দাবি করেছে তারা।
গত কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বছরের শেষ দিকে এর আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ না থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, শুক্রবার তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মানদেব প্রণালীর দিকে হুথিদের বড় ধরনের অভিযান চালানোর পর এসব হামলা হয়।
সংঘাতের প্রভাবে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও এডেনের মধ্যবর্তী সড়কে বেসামরিক লোকজনের ওপর হুথিদের গোলাবর্ষণে চারজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
বর্তমানে হুথিরা সানা এবং দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্ররা দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। সংঘাতে হুথিদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান এবং সরকারপন্থিদের সমর্থন করছে সৌদি আরব।
