সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের বিমার টাকা পরিশোধ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে ২ হাজার ৫৪৯ গ্রাহকের বিমা দাবি বাবদ ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
বিমা পলিসিধারীদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দিলকুশায় আইডিআরএর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পলিসিধারীদের হাতে বিমা দাবির চেক তুলে দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, পলিসিধারীদের ন্যায্য দাবি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিমা খাতে মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে দাবি নিষ্পত্তির গতি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পলিসিধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আইডিআরএ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। বিমা দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে মোট ৯৪টি চেকের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৪৯ জন গ্রাহককে ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছে।
চেক পাওয়া সাতটি কোম্পানি হলো—বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।
এর মধ্যে বায়রা লাইফের ৮ জন গ্রাহককে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮২৬ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৫২৮ জনকে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৯ টাকা এবং গোল্ডেন লাইফের ৪ জনকে ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হোমল্যান্ড লাইফের ১৫ জন গ্রাহক পেয়েছেন ১০ লাখ ৬৬ হাজার ১৯১ টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৬২৪ জন পেয়েছেন ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ টাকা এবং প্রগ্রেসিভ লাইফের ১ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহক পেয়েছেন ৬ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ১৬৫ টাকা ৫৮ পয়সা।
অন্যদিকে সানফ্লাওয়ার লাইফের ২০ জন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা।
আইডিআরএ জানিয়েছে, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিমা পলিসিধারীদের দাবি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি বিমা খাতে আস্থা বাড়বে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
