আলোচিত❯
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশরাষ্ট্র কাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে : হাসনাত আবদুল্লাহএনসিপির ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনাসরকার গঠনে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়নি : সুইডেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতারংপুরের পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরাক্যামেরাসহ মুখের ওপর পড়ে গেলেন ডিওপি, আহত প্রিয়ন্তী উর্বীরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনছয় বছরের বিরতি ভেঙে আবারও পর্দায় বিপাশাহাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যুযাযাবরে সজলের পর্দাসঙ্গী চাঁদনী শেখসারাক্ষণ খাবারের চিন্তা, নিয়ন্ত্রণে আনতে বদলান দৈনন্দিন অভ্যাসঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত এলিভেটেড কর্ডলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত: ডা. জাহেদতিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশরাষ্ট্র কাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে : হাসনাত আবদুল্লাহএনসিপির ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনাসরকার গঠনে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়নি : সুইডেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতারংপুরের পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরাক্যামেরাসহ মুখের ওপর পড়ে গেলেন ডিওপি, আহত প্রিয়ন্তী উর্বীরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনছয় বছরের বিরতি ভেঙে আবারও পর্দায় বিপাশাহাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যুযাযাবরে সজলের পর্দাসঙ্গী চাঁদনী শেখসারাক্ষণ খাবারের চিন্তা, নিয়ন্ত্রণে আনতে বদলান দৈনন্দিন অভ্যাসঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত এলিভেটেড কর্ডলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত: ডা. জাহেদ
সারাদেশ

প্রীতিলতার শেষরাতের ফোনকল ঘিরে প্রশ্ন

Tania Jaha28-08-2026 11:52:16 AMদেখেছেন 49 বার
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram
প্রীতিলতার শেষরাতের ফোনকল ঘিরে প্রশ্ন

২৪ঘণ্টা অনলাইন : রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুসন্ধানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর রাত ২টা ৪০ মিনিটের একটি ফোনকল।

আসকের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট রংপুরে সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করে। তারা নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২৭ আগস্ট প্রকাশিত পর্যবেক্ষণে আসক জানায়, ঘটনার পর পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কিছু জায়গায় প্রশ্ন ও অসংগতি রয়েছে।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী আসককে জানান, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। তবে পরদিন তিনি দেখতে পান, রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রীতিলতার নম্বর থেকে তার ফোনে একটি কল এসেছিল। তিনি সেই কলটি ধরতে পারেননি।

পূজার ভাষ্য অনুযায়ী, এত রাতে তার বোন সাধারণত ফোন করতেন না। ফলে কলটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

আসকের মতে, পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে এই ফোনকলের সময় মিলিয়ে দেখা জরুরি। কলটি কে করেছিলেন, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, ওই সময় মোবাইল ফোনটির অবস্থান কোথায় ছিল এবং পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন কখন বন্ধ হয়েছে—এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশের দাবি : রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আসক প্রতিনিধিদের জানান, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নিহতদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে গেলে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দেন। এরপর পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। অভিযুক্তরা কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করে খাবার খান এবং পরে সেখান থেকে চলে যান বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করার পর আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে আসকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পুলিশের এই ঘটনাক্রম স্বাধীন ও বস্তুগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিযুক্তরা যদি হত্যার পর ওই বাড়িতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, চুল, ত্বকের কোষসহ অন্যান্য ফরেনসিক আলামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা: ২২ আগস্ট রাত ৮টার কিছু পরে পূজা চক্রবর্তী তার বোনের নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পান। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে না পেরে রাত সোয়া ৯টার দিকে স্বামীকে নিয়ে তিনি বোনের বাড়িতে যান।

বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে। প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল একটি কক্ষের এক কোণে। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাব এলোমেলো অবস্থায় ছিল।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নিয়েও প্রশ্ন: ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আসক জানতে পারে, বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি সিসিটিভিতে উপস্থিতি ধরা পড়ার আশঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তবে কখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, কে বা কারা তা করেছিল এবং এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ড বা সিসিটিভির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব বিষয়ও প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে আসক।

অভিযুক্তদের পরিবারের বক্তব্য: সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ছেলের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ ও বিভিন্ন প্রশ্নের কথা জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং পুলিশে নেওয়ার সময় ছেলের পোশাকসহ কয়েকটি বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাসও তার ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

এ ছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সীমান্ত চন্দ্র দাসের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলে আসক। তাদের দাবি, ঘটনার রাতে সীমান্ত বাড়িতেই ছিলেন। ওই রাতে সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময় তাদের বাড়িতে এলেও সেখানে রাতযাপন করেননি বলে তারা জানান।

ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ: আসকের প্রতিনিধি দল মর্গের ইনচার্জ সাহেব আলী ও ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোম যতন কুমারের সঙ্গে কথা বলে। যতন কুমারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো পচনশীল অবস্থায় ছিল। তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখেননি, তবে শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান।

নিহত দুই নারীর শরীরে যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত তার চোখে পড়েনি বলেও তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আসক বলেছে, মর্গকর্মীর পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মতামত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মৃত্যুর কারণ, আঘাতের ধরন, যৌন সহিংসতার কোনো আলামত ছিল কি না এবং হত্যার পদ্ধতি নির্ধারণে ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রাত ২টা ৪০ মিনিটের ফোনকল, মোবাইলের অবস্থান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সময়, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন—এসব তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও সময়রেখা স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছে আসক।