প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্রোটিন তৈরির প্রযুক্তি, বানানো হলো কুকিও

প্লাস্টিক দূষণ কমানোর পাশাপাশি খাদ্যের বিকল্প উৎস তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে নতুন একটি গবেষণা। বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে সাধারণ পিইটি প্লাস্টিক ও কৃষি বর্জ্যকে খাদ্য উপাদানে রূপান্তর করা সম্ভব হতে পারে।
সাউদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইঞ্জিনিয়ার্ড ইস্ট ব্যবহার করে পিইটি প্লাস্টিক এবং ভুট্টার ডাঁটা-পাতার মতো কৃষি বর্জ্য ভেঙে প্রোটিন, চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তৈরির চেষ্টা করছেন। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ মিশ্রণ বা স্লারি ব্যবহার করে তারা প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিও তৈরি করেছেন।
গবেষণাটি মূলত নাসার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনে নভোচারীদের জন্য মহাকাশেই প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। মহাকাশে উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশকে পুনরায় ব্যবহার করে খাদ্য উপাদান তৈরি করা গেলে সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
তবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশেই সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীতেও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প প্রোটিনের উৎস তৈরিতে এটি ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটির আরও উন্নয়ন হলে উৎপাদিত উপাদান ব্যবহার করে দুধ বা মাংসের বিকল্প খাদ্য তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্তমানে এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত খাদ্যের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি- প্রতি কেজিতে প্রায় ৬০ ডলার। তবে ইস্টের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন শুরু করা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
প্লাস্টিক বর্জ্যকে মূল্যবান পুষ্টি উপাদানে রূপান্তরের এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে একদিকে যেমন বর্জ্য দূষণ কমাতে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে তেমনি টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
