ইরানে হিজাব ছাড়ছেন নারীরা, নতুন চ্যালেঞ্জে সরকার

২৪ ঘণ্টা অনলাইন : যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানে প্রকাশ্যে হিজাব না পরার প্রবণতা বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে অনেক নারী খোলা চুলে চলাফেরা করছেন। এতে বাধ্যতামূলক হিজাব আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে সরকার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান ও সরকারপন্থি সমাবেশেও সম্প্রতি হিজাব ছাড়া নারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরানসহ অন্যান্য শহরে স্কার্ফ ছাড়া নারীদের চলাচলের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ইরানের কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিকরা অবশ্য বাধ্যতামূলক হিজাব আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। হিজাব না মানার অভিযোগে বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে বিপুলসংখ্যক নারীর বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর অভিযান চালানো হলে নতুন করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, তার স্মৃতি এখনো তাজা।
মাহসা আমিনিকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ‘সঠিকভাবে হিজাব না পরার’ অভিযোগে নীতি পুলিশ আটক করেছিল। তিন দিন পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের সময় বহু নারী প্রকাশ্যে মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পরও হিজাব আইন অমান্যের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
ইরানের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত ইসলামি পোশাক ছাড়া জনসমক্ষে আসা নারীদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। ২০২৪ সালে আরও কঠোর শাস্তি ও নজরদারির বিধান রেখে একটি আইন অনুমোদন করা হলেও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপে এর বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জোর করে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আচরণের পরিবর্তন মূলত সাংস্কৃতিক ও বিশ্বাসের বিষয়; শক্তি প্রয়োগ করে মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করা যায় না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ইরান সরকার। এর মধ্যে হিজাব ইস্যুতে আবারও বড় ধরনের আন্দোলন তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তাই কট্টরপন্থিদের কঠোর পদক্ষেপের দাবির বিপরীতে সরকার কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে ইরানের রাজপথে নারীদের হিজাববিহীন উপস্থিতি দেশটির ধর্মীয় পোশাকনীতি নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
