ইউরোপে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালে ইউরোপে থাকা মার্কিন স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলার কথা বিবেচনা করছে ইরান। দেশটির নেতাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দেশ বুলগেরিয়া ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সম্প্রতি দেশটি তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমানকে জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে।
সাইপ্রাসও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মার্চে দেশটিতে থাকা একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক কেবলও লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আলোচনা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরানের পাল্টা আক্রমণ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন অবকাঠামোও এর আওতায় আসতে পারে।
এর আগে সংঘাতের সময় ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পৌঁছাতে পারেনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
