সৎ-দক্ষ কর্মকর্তাদের সুযোগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী

সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিয়ে দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা বাড়াতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করতে চায়। এজন্য সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
এনবিআরের কার্যক্রমের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে।
দীর্ঘদিনের শাসনামলে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, বৈষম্য ও রাজস্ব আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে কর আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ, হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের উৎস বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে। এতে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। শুধু প্রচলিত কর আইন জানাই যথেষ্ট নয়; অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি টেকসই নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কর প্রদানে সক্ষম নতুন করদাতাদের শনাক্ত করে করের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য আধুনিক ও ডেটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
রাজস্ব আহরণে কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে কর্মকর্তারা চাইলে আরও ভালো করতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা।
