ফখরুলের পর বিএনপিতে আলোচনায় রিজভী

২৪ঘন্টা অনলাইন : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি দলটির স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ শূন্য হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ফখরুলের সংসদীয় আসন নিয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এসব বিষয়কে ঘিরে বিএনপির ভেতরে নানা আলোচনা চলছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে আপাতত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
তবে মহাসচিব পদে রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কোনো নেতাকেও মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন নেতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়েই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটিই তিনি পালন করবেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি পদও শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ায় স্থায়ী কমিটিতে একটি পদ শূন্য হয়েছিল। ফলে দুটি শূন্য পদে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি থাকায় এখনই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ নাও করা হতে পারে।
অন্যদিকে ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও নতুন মুখ আসতে পারে। বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলীয় অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনাই বেশি। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান চাইলে অন্য কাউকেও এ দায়িত্ব দিতে পারেন।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো, মন্ত্রিসভা এবং তার সংসদীয় আসনে একাধিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
