জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং

২৪ঘণ্টা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। এ ঘটনার পর টোকিওকে কড়া বার্তা দিয়ে সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেছেন, জাপান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ছেড়ে আগাম হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে।
৫ আগস্ট উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাপানের সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। একই দিন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
কিম ইয়ো জং বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরে এজিস ডেস্ট্রয়ার ‘চোকাই’ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের অংশগ্রহণ—এসবই দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, যুদ্ধজাহাজ আধুনিকীকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সহযোগিতার মাধ্যমে ওয়াশিংটন জাপানের আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া এমন জবাব দেবে, যাতে জাপান বুঝতে পারে তাদের নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টোকিওর বিরুদ্ধে একাধিকবার কঠোর ভাষায় মন্তব্যও করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দীর্ঘদিনের সমালোচক উত্তর কোরিয়া। গত জুলাই মাস থেকেই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করে এসব যৌথ সামরিক কার্যক্রমকে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের সামরিক আধুনিকীকরণকে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে নিজেদের অস্ত্র কর্মসূচিকে আরও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করছে পিয়ংইয়ং।
সিউলের উত্তর কোরীয় অধ্যয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং মু জিন বলেন, কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে জাপানের সামরিক প্রস্তুতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরপ্রাচ্য অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম ইউল-চুলের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পূর্বাভাস হতে পারে।
