জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়ায় ছাত্র দল-শিবির সংঘর্ষ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসায় পৃথক ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
৪ আগস্ট সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ছাত্রদল নেতাকর্মী, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হওয়া এক সাংবাদিকও চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত সাংবাদিক নাজমুল জানান, আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গেলে ইট ও কাচের টুকরোর আঘাতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, রাজধানীর শিক্ষা বোর্ডের সামনে লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নেছারুদ্দীন রাব্বির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন। একই ঘটনায় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার জন্য তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মীদের দায়ী করেন।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
দিনের বিভিন্ন সময়ে ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন আহত শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। সন্ধ্যায় আহতদের খোঁজ নিতে ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আহত অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং এক সাংবাদিক রয়েছেন। কয়েকজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন, আর বাকিদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
