ইউজিসি-আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা সাউদার্নে

২৪ঘণ্টা অনলাইন : চট্টগ্রামের বেসরকারি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসককে কার্যত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ মে সরকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফারুককে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে এ নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে হাইকোর্ট সাময়িক স্থগিতাদেশ দিলেও, পরবর্তীতে আপিল বিভাগ প্রশাসক নিয়োগকে বৈধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের তিন সদস্যকে অযোগ্য এবং অন্য সদস্যদের নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যবেক্ষণও দেন আদালত।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশনার পরও প্রশাসককে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এক বছরে তিনি মাত্র দুই দিন অফিস করতে পেরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তেও তাকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
ভিসি নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক: অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়াই অপসারণ করা হয়। পরে ট্রেজারার ড. শরীফ আশরাফুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যদিও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়াই এই দায়িত্ব দেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, উপাচার্য অপসারণ ও নতুন দায়িত্ব প্রদানের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি।
এ ছাড়া ড. শরীফ আশরাফুজ্জামানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার উপস্থাপিত একটি এমবিএ সনদের তথ্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠার সময়কাল মিলছে না। পাশাপাশি উপাচার্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও একাডেমিক অভিজ্ঞতাও তার নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
ইউজিসি তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ: ইউজিসির তদন্তে ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সনদ জালিয়াতি, তহবিল আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) মামলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন, জাল সনদ, ব্যক্তিগত নামে জমি ক্রয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের মতো একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সনদ নিয়ে শঙ্কা: সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের সময়ে দেওয়া কয়েক হাজার সনদের বৈধতা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসকের বক্তব্য: সরকারের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফারুক বলেন, দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার ভাষ্য, আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: ইউজিসির এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
