রাষ্ট্রদূত ইস্যুতে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা

২৪ঘন্টা অনলাইন : ব্রাজিলে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন (আগ্রেমো) এখনো দেয়নি ব্রাজিল সরকার। এ নিয়ে ওয়াশিংটনে অসন্তোষ বাড়ছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ জুন ফ্লোরিডার প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যানিয়েল পেরেজকে ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। তবে প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী স্বাগতিক দেশের পূর্বানুমতি নেওয়ার আগেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ব্রাজিল সরকার ভালোভাবে নেয়নি।
ব্রাসিলিয়ার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়াকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ব্রাজিল। ফলে পেরেজের ‘আগ্রেমো’ এখনো অনুমোদন করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মনোনয়ন অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেও ব্রাজিলের সম্মতি ছাড়া তিনি দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিলের এই বিলম্বে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট। চলতি সপ্তাহের মধ্যে জটিলতার সমাধান না হলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন কে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রেসিডেন্টের। এ বিষয়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
আগামী অক্টোবরেই ব্রাজিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে চলমান বিরোধ নির্বাচনের আগে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পরে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে আরও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া ব্রাজিলের দুটি অপরাধী গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।
ব্রাজিল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্রেমো দেওয়ার বিষয়টি এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে স্বাগতিক দেশের এখতিয়ার।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতের আগ্রেমো সংক্রান্ত প্রক্রিয়া গোপনীয়। তাই এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রদূত নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বিরোধ শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কই নয়, দুই দেশের বাণিজ্য, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
