বিএনসিসির আওতায় মাদ্রাসা-কারিগরি

২৪ঘন্টা অনলাইন : সঙ্গে বিএনসিসির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও পরিচালনার ব্যয় মেটাতে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক চাঁদা ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন হার সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমান অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কার্যক্রম সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।
উপজেলায় পাইলট প্রকল্প সরকার প্রথম ধাপে কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বিএনসিসির কার্যক্রম চালু করবে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসি ইউনিট গঠন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের সম্পৃক্ত করে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তার ভাষায়, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও নৈতিকতা বিকাশে বিএনসিসি একটি কার্যকর সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে
সরকারি অনুদানও বাড়বে: নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ সরকারি বরাদ্দ থেকেও দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বিএনসিসি কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
প্রথম ধাপে ঢাকা পলিটেকনিক ও তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা: বিএনসিসির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় প্রথম ধাপে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে নতুন প্লাটুন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামো পরিদর্শন ও প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।
বিএনসিসি সূত্র জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্লাটুন গঠনের জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয়। তাই শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্ব: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় বিএনসিসি চালু হলে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণই নয়, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেরও সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা জরুরি। স্কাউট, বিএনসিসি, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্কচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদন শেষে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা, পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির নতুন ইউনিট চালু করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সব ধারার শিক্ষার্থীরা সমানভাবে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
