জমি দখল মামলায় কাফি, বাবা ও ভাই

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা একটি খননযন্ত্র, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজায় অবস্থিত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে ওই জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি না মানলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধাক্কাধাক্কি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত জমি থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণের ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই জমি ভোগদখলে রেখেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেন, জমিটির প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায় পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে তার দাবি।
কাফির ভাষ্য, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো কথা বা সাক্ষাৎ হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের জন্য তা কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
