সবজির দামে সেঞ্চুরি, মরিচ ২৪০

২৪ঘণ্টা অনলাইন : অবিরাম বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে পৌঁছেছে ২৪০ টাকা কেজিতে, যা ভোক্তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। ২২ জুলাই সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকায়। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
লাউয়ের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং গাজর ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে পেঁপের দাম কিছুটা কম রয়েছে; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েক দিন আগেও ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন খুচরা বাজারে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজির খেত থেকে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বাড়ছে।
ক্রেতারাও দামের ঊর্ধ্বগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক ক্রেতা জানান, কয়েক দিন আগেও ৬০ থেকে ৭০ টাকায় যে সবজি কেনা যেত, এখন তার দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে সবজির বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
