মেসির অভিযোগের পরও শাস্তি এড়ালেন কুকুরেয়া

২৪ঘণ্টা অনলাইন : স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের পাশাপাশি আলোচনার জন্ম দেন স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে কথা বলার একটি দৃশ্য ভাইরাল হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি পাননি তিনি।
ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। পরে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর কঠোর ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা বিরল ফুটবলারদের তালিকায় নাম লেখান এনজো।
এনজোর বহিষ্কারের পরই নতুন বিতর্কের সূচনা হয়। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি রেফারির কাছে কুকুরেয়ার একটি আচরণের অভিযোগ করছেন। মেসির দাবি ছিল, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কথা বলার সময় মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, যা নতুন ফিফা নির্দেশিকার আওতায় শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে চালু হওয়া নিয়মটির মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠে গোপন বা বিতর্কিত বাক্যবিনিময় নিরুৎসাহিত করা। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কের পর ফিফা এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি আসরে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন খেলোয়াড় শাস্তিও পেয়েছেন।
তবে নিয়মটি সব ধরনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুখ ঢেকে কথা বললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি হবে না। যদি কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সংঘর্ষ বা আগ্রাসী আচরণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে যোগাযোগ করা হয়, তখনই সেটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ম্যাচের ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুকুরেয়া সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মুখে হাত দিয়েছিলেন। তবে ওই মুহূর্তে কোনো তর্ক-বিতর্ক, উত্তেজনা বা সংঘর্ষের পরিস্থিতি ছিল না। ফলে ম্যাচ কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে দেখেননি।
এর আগে টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামকেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেটিও সাধারণ কথোপকথন হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
ফলে ফাইনালের ঘটনাতেও কুকুরেয়াকে সন্দেহের সুবিধা দেওয়া হয়। মেসির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হলেও নিয়ম ভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় স্পেনের এই ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
