ইরানে ফের মার্কিন হামলা

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টানা দশম রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিহত মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর জন্য ইরানকে দায়ী করে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়ার পরই এ হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনায় ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প জানান, জর্ডান ও ইরাকে নিহত তিন মার্কিন সেনার স্মরণে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনায় ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ায় একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যত একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
তবে সংঘাত তীব্র হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরানের দাবি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশপথের নেভিগেশন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হলেও বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ট্যাংকার দুটি প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলের একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছিল এবং বিস্ফোরণের পর সেগুলো থেমে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
