জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের অভিযান

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক এবং র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসিক এলাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জিয়াউল আহসানের আটতলা বাড়িতে ইনভেন্টরি বা সম্পদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইয়ের কাজ চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ক্রোককৃত স্থাবর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন এবং গণপূর্ত বিভাগকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন।
দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলামের আবেদনের পর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ নির্দেশনা দেন।
২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। মামলায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে রাজধানীতে পাঁচটি বাড়ি, একটি বাগানবাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট, বিপুল পরিমাণ জমি, বিলাসবহুল গাড়ি, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়পত্রের তথ্যও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামেও জমি ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব সম্পদের মালিকানা গড়ে তোলা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, জিয়াউল আহসান ২০১৭ সালে অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বিদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি ওই দেশের বন্ডে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
সংস্থাটির অভিযোগ, দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর ও পাচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসান কর্মজীবনে র্যাব, এনএসআই এবং এনটিএমসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আলোচিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তবে পরবর্তীতে গুম, খুন, অবৈধ নজরদারি, ফোনে আড়িপাতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ সামনে আসার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক তার, তার পরিবারের সদস্যদের এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে।
দুদক বলছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
