যুদ্ধবিরতি নিয়ে শেষ কথা মোজতবার

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধ কিংবা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাবে কি না, নাকি আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরবে— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রয়েছে।
১৯ জুলাই ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী যে হামলাগুলো চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আক্রমণের প্রতিক্রিয়া মাত্র। এখনো ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।
তিনি বলেন, “শনিবার সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দীর্ঘ বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত প্রায় ৪০ দিন স্থায়ী হয়। পরে এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুন মাসে স্বাক্ষরিত হয় ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধ এবং ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জড়িত ছিল। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। এর পরপরই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘরিবাবাদি ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে সরে আসার পক্ষে মত দেন। পরে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, “তার সঙ্গে আমার কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। খুব সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিই কেবল তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।”
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিতে পারে। আর সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
