ইরানে দুই বিক্ষোভকারীর ফাঁসি

২৪ঘন্টা অনলাইন: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ ও ৯ জানুয়ারির বিক্ষোভ দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিণত হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ওই আন্দোলনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে আখ্যায়িত করলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর শক্তি প্রয়োগ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলন ও সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গুলি চালিয়েছে। এসব ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে গ্রেপ্তার অভিযান এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিক্ষোভ ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ECPM) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের দাবি, ১৯৮৯ সালের পর এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরই ইরানের অবস্থান। সংগঠনটি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিক্ষোভ-পরবর্তী দমনপীড়ন এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
