দেশজুড়ে বসছে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব

২৪ঘন্টা অনলাইন: দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান ও মান্দারিন ভাষা শেখানোর জন্য আধুনিক ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের যুবসমাজকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। ‘স্ট্রেন্থেনিং ভোকেশনাল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ (এসভিইবি)’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ হাজার ৬৬০ শিক্ষার্থীকে ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ প্রকল্পের আওতায় ৮০ জন শিক্ষার্থীর ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১২০ জন জাপানিজ, ৪৮ জন কোরিয়ান এবং ২৪ জন আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
অন্যদিকে ‘এন্টারপ্রাইজ বেসড ট্রেইনিং (ইবিটি)’ কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার ৬০০ জনকে জাপানিজ এবং ৭ হাজার ৮৪৮ জনকে ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ‘স্কিল আপ বাংলাদেশ’ নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ যুবক-যুবতীকে ইংরেজি, আরবি, জাপানিজ ও কোরিয়ান ভাষায় উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত স্কিলস কম্পিটিশন, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকারের আশা, বিদেশি ভাষা শিক্ষার এই সম্প্রসারিত উদ্যোগ দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
