মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ বন্ধ

২৪ঘন্টা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা নতুন করে বিমান অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এ অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিরিক, বন্দর আব্বাস ও কুশেম দ্বীপে মার্কিন হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তেহরান দাবি করেছে, ওমানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে সফল হয়নি। যদিও ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করেছেন, তবুও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, একতরফা সিদ্ধান্তের সময় শেষ। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে ইরান। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আপাতত এ নৌপথে চলাচল বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন করে অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সেখানে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সেন্টকম আরও দাবি করেছে, গত তিন দিনে তারা ইরানের ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, তারা জর্ডান, কুয়েত, ওমান ও কাতারে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেও পড়েছে। কাতারে হামলায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় ইরানের কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েতেও একটি তেল স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওমান সরকার হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
