টেক্সটাইল খাত রক্ষায় ৬ দাবি বিটিএমএর

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
সংগঠনটির দাবি, দ্রুত নীতিগত সহায়তা না দেওয়া হলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প দুর্বল হয়ে পড়বে। এর ফলে তৈরি পোশাক খাত আমদানিনির্ভর হয়ে যেতে পারে এবং এলডিসি-উত্তর সময়ে রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৯ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসব দাবি তুলে ধরে।
বিটিএমএ জানায়, তাদের ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পিনিং, উইভিং, ডেনিম, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংসহ বিভিন্ন বস্ত্রশিল্প পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর পুরো টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ভ্যালু চেইনে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। সরাসরি প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরোক্ষভাবে প্রায় চার কোটি মানুষের জীবিকা এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
বিটিএমএর ভাষ্য, দেশে তুলা উৎপাদন সীমিত হওয়ায় কাঁচামাল আমদানি করতে হলেও স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বর্তমানে নিট পোশাক শিল্পের প্রায় শতভাগ এবং ওভেন পোশাক শিল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সুতার চাহিদা পূরণ করছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুতা আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশীয় শিল্প চাপের মুখে পড়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ২১ হাজার ১৪২ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে দাবি করেছে বিটিএমএ।
এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রধান রপ্তানি বাজারে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও রুলস অব অরিজিনের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
বিটিএমএর ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল, দেশীয় সুতা ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৫ শতাংশ করা, প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের কর্পোরেট কর হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখা, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর বাতিল অথবা তা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের ওপর নোটিশনাল সুদ সংক্রান্ত বিধান থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়া।
বিটিএমএ সতর্ক করে বলেছে, দেশীয় স্পিনিং ও প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প দুর্বল হয়ে পড়লে তৈরি পোশাক খাত আমদানিকৃত সুতা ও কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদনের লিড টাইম বৃদ্ধি, স্থানীয় মূল্য সংযোজন হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি এ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
