তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর বাস্তবায়নের দাবি

২৪ঘণ্টা অনলাইন: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত নীতিগত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
৬ জুলাই রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে আইনের সুফল পেতে হলে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের বিস্তার রোধেও জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়ায় এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তারা তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এসব পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও বিলকিস ইসলাম, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের হেলথ সেক্টরের পরিচালক ও বিটিসিএর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রামস সৈয়দা অনন্যা রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
