পঞ্চদশ সংশোধনী বিতর্কে শুনানি শুরু

২৪ঘণ্টা অনলাইন: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে আপিল বিভাগে।
৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।
এর আগে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের অনুমতি দেন। রিটকারী পক্ষ আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একইসঙ্গে গণভোট বাতিল-সংক্রান্ত বিধানও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানে গণভোটের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়।
রায়ে আদালত বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
হাইকোর্ট আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল না করে এর বাকি বিধানগুলো বহাল রাখেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংসদ চাইলে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন আনতে পারবে বলে মত দেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।
বহুল আলোচিত এ মামলার আপিল শুনানির ফলাফলের দিকে এখন রাজনৈতিক মহল, আইনজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
