ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা, চাপে হাসপাতাল

২৪ঘন্টা অনলাইন : দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, এবার রাজধানীর তুলনায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলেই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সময়ে হাম রোগীর চাপ থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বেগে হাসপাতালগুলো।
চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগে থেকেই শয্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনা, অসংক্রামক রোগ ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীদের পাশাপাশি এখন হাম ও ডেঙ্গুর রোগীও বাড়ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের রোগী বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক চিকিৎসক ও নার্সকে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৭২৯ জন। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৯ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৪৫৮ জন। মারা গেছেন ১৯ জন। তবে চিকিৎসকদের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি মৃত্যুর তথ্য এখনো সরকারি তালিকায় যুক্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার ঢাকার চেয়ে জেলার পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে। গত বছর বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় এডিস মশার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। সে সময় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বেশ কয়েকটি সুপারিশ করলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি।
আইইডিসিআরের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে এডিস মশার ঘনত্ব নির্ণয় ও নিধন কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী নগরীতেও উদ্বেগজনক মাত্রায় এডিস মশার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চঝুঁকির সীমার চেয়েও সেখানে প্রজনন সূচক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, রাজধানীর তুলনায় ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতেই ডেঙ্গুর বিস্তার বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাক হোসেনও একই ধরনের মত দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এডিস মশা দমনে করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
