যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল চালু

২৪ঘণ্টা অনলাইন: কাতারে অনুষ্ঠিত সংলাপ শেষে নিজেদের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য জটিলতা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
ঘারিবাবাদি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই কাতার সংলাপের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর টানা ৪০ দিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যায়। সেখানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেয়। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফিরে যায় দুই পক্ষ।
পরবর্তীতে মে মাসের মাঝামাঝি ১৪ দফা সম্বলিত একটি সমঝোতা খসড়া ইরানের কাছে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গত ১৫ জুন তাতে সম্মতি জানায় তেহরান। এরপর ১৭ জুন ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থের একটি অংশ ছাড়ের বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ওই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় না করার অঙ্গীকার করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন যোগাযোগ চ্যানেল চালুর সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
