তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তার পদোন্নতি

২৪ঘণ্টা অনলাইন: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চনা, বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে বিবেচিত সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
১ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর অথবা পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করা হবে।
জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিন বাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগে আসা আবেদনগুলো যাচাই করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাহিনী সদর দপ্তরগুলো পৃথক পর্ষদ গঠন করে। পরে গত ৩ মে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব আবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত দেয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহাল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত, অকালীন অবসরপ্রাপ্ত ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা চাকরি ও মর্যাদা পুনর্বহালের আবেদন করেন। এর আগে একই ধরনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
