চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে কিমের অঙ্গীকার

২৪ঘণ্টা অনলাইন: চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তিনি সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১ জুলাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তায় কিম জং উন এ মন্তব্য করেন।
বার্তায় কিম বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধন ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বিকশিত করা পিয়ংইয়ংয়ের সরকার ও শাসক দলের দৃঢ় অঙ্গীকার। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক পিয়ংইয়ং শীর্ষ সম্মেলন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই বৈঠকে দুই নেতা ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর ছিল তার ক্ষমতায় আসার পর উত্তর কোরিয়ায় প্রথম সফর। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে, তবুও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিসংখ্যান দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতার গভীরতাই তুলে ধরে।
