পবিত্র আশুরা: ত্যাগ, ন্যায় ও সত্যের অমর বার্তা

২৪ঘন্টা অনলাইন : হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররমের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে "আশুরা" নামে পরিচিত। আরবি "আশারা" শব্দ থেকে এসেছে এই নাম, যার অর্থ দশ। ইসলামি ইতিহাসে এই দিনটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী, এবং মুসলিম বিশ্বে এটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীরতার সাথে স্মরণ করা হয়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, আশুরার দিনে ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল। এই দিনে আল্লাহ হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং বনী ইসরাইলকে নীল নদ পার করে দিয়েছিলেন। তবে আশুরা সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ৬১ হিজরিতে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার কারণে, যেখানে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে অন্যায় ও অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে শাহাদাত বরণ করেন। পরিবারের নারী, শিশুসহ অসংখ্য সঙ্গী-সাথী নিয়ে তিনি তিন দিন পানির অভাবে কষ্ট সহ্য করেও আদর্শের সাথে আপস করেননি।
আশুরা উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হয়। সুন্নি মুসলিমরা এই দিনে নফল রোজা রাখেন, কেননা হাদিসে এর বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। অন্যদিকে শিয়া সম্প্রদায় এই দিনটিকে শোক ও মাতমের মাধ্যমে স্মরণ করে, ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মজলিস ও মিলাদের আয়োজন করে।
কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়, বরং এটি মানবতার জন্য চিরন্তন শিক্ষা। এই দিন আমাদের শেখায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে কখনো আপস করা যায় না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে যত বড় মূল্যই দিতে হোক না কেন। ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ আজও বিশ্বজুড়ে অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তোলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
আশুরার এই পবিত্র দিনে আমাদের উচিত আত্মসমালোচনা করা, সহানুভূতি ও মানবতার চর্চা করা এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা। প্রকৃত অর্থে আশুরার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেই এই দিবসের তাৎপর্য সার্থক হয়ে উঠবে।
