আলোচিত❯
মোংলায় ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানাউড়তেও পারবে টেসলার নতুন গাড়ি!ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি২০২৭ সালে বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতি হবে ভারতমোংলায় নারী ধর্ষণ ও হত্যা, দুই মাস পর গ্রেপ্তার ২তরুণদের শক্তিশালী করতে শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: এ্যানি১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিতসুন্দরবনে বনদস্যুদের জিম্মি দশা থেকে চার জেলে উদ্ধারমালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী‘জি বাংলা’ ছেড়ে এবার ‘স্টার জলসা’য় দিতিপ্রিয়াদেবীর বোধন আজ, রাত পোহালেই শারদীয় দুর্গোৎসবমোংলায় ৩ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানাউড়তেও পারবে টেসলার নতুন গাড়ি!ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি২০২৭ সালে বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতি হবে ভারতমোংলায় নারী ধর্ষণ ও হত্যা, দুই মাস পর গ্রেপ্তার ২তরুণদের শক্তিশালী করতে শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: এ্যানি১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিতসুন্দরবনে বনদস্যুদের জিম্মি দশা থেকে চার জেলে উদ্ধারমালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী‘জি বাংলা’ ছেড়ে এবার ‘স্টার জলসা’য় দিতিপ্রিয়াদেবীর বোধন আজ, রাত পোহালেই শারদীয় দুর্গোৎসব
ব্রেকিং নিউজ
● সচিবালয় ভবনে আগুন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে● সাভারে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ৪● সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে প্রভাব● ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার● ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথের পরিকল্পনা● এসএসসিতে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার পরিকল্পনা● বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ রোধে নতুন জাতীয় প্ল্যাটফর্ম চালু● পুরান ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তা সুপারিশ বা
আন্তর্জাতিক

এই যুদ্ধের প্রয়োজনই বা কী ছিল?

shamim19-06-2026 08:23:00 AMদেখেছেন 63 বার
শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram
এই যুদ্ধের প্রয়োজনই বা কী ছিল?

২৪ঘন্টা অনলাইন : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সমঝোতা স্মারকে  স্বাক্ষর করেছেন, তা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।

এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য ইতোমধ্যেই পরিষ্কার। ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক নাগরিক।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরোক্ষভাবে ইসরায়েল একটি কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তেহরানের শাসকগোষ্ঠী তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরাশক্তি ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের। কিন্তু ইরানের সরকার শুধু টিকেই থাকেনি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবাহিত হয় ট্রাম্প প্রশাসনকে এমন কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী কঠোরপন্থী মহল এবং ইসরায়েল সরকারকে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

লেবানন প্রশ্নে নতুন বিরোধ

সমঝোতা স্মারকে লেবাননের যুদ্ধের অবসানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, তা সম্ভব নয়। তারা লেবাননে অবাধ সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা চায়। এই ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আরও গভীর মতবিরোধ সৃষ্টি করতে পারে এবং ইরানের সেই কট্টরপন্থীদের শক্তিশালী করতে পারে, যারা আমেরিকার সঙ্গে কোনো চুক্তির বিরোধী।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করতে, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে এবং বিদেশে জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছে।

এসবের পরই শুরু হবে সবচেয়ে কঠিন আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি।

যুদ্ধের আগে যে অবস্থায় ছিল, সেখানেই প্রত্যাবর্তন

বাস্তবে এই সমঝোতার মূল্য হলো ২৭ ফেব্রুয়ারির পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায়।

সেদিন হরমুজ প্রণালী খোলা ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিল। এখন সমঝোতার ফলে আবারও আলোচনা শুরু হবে এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে।

মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন,

“যুদ্ধবিরতির একমাত্র অর্জন হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়া যা যুদ্ধের আগেও খোলা ছিল। আর তা করতে গিয়ে আমরা সম্ভবত ইরানকেই অর্থ প্রদান করছি।”

তাহলে যুদ্ধটি কেন?

এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় যুদ্ধটি আসলে কী অর্জনের জন্য করা হয়েছিল?

এটি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তির সূচনাও হতে পারে। আগামী অক্টোবরে তিনি নির্বাচনের মুখোমুখি হবেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ভোটারদের কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

হরমুজ প্রণালীর শক্তি উপলব্ধি করল ইরান

ইরান বহুদিন ধরেই জানত, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কূটনীতিকরাও এ বিষয়টি জানত।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক স্বভাবের ছিলেন এবং এই অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে চাননি। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েল তাকে এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের হত্যা করার পর নতুন নেতৃত্ব বুঝতে পারে যে তারা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে। ফলে তারা দ্বিধা না করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।

এর মাধ্যমে ইরান উপলব্ধি করে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ গলিপথ নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের জন্য বহু বছরের ব্যয়বহুল আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেয়ে অনেক কার্যকর অস্ত্র।

কৌশলগত ভুল হিসাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করেছিল যে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলে ইরানের সরকার ভেঙে পড়বে। কিন্তু প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে বাহ্যিক আঘাতেও তারা টিকে থাকতে পারে।

ইরান নিছক একটি দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরশাসন নয়; এটি একটি আদর্শিক রাষ্ট্র, যার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সরকার পতন ঘটবে এবং দেশটির জনগণ নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে। পরে তিনি ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণও দাবি করেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে যে লক্ষ্য পূরণের অপেক্ষায় ছিলেন, এবার তা বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি।

এখনও অনেক অনিশ্চয়তা

বর্তমান সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়; বরং এটি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার একটি কাঠামো মাত্র।

পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার সফলতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল এবং আলোচনার সময়সীমা বাড়তেও পারে।

ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসরায়েলের কট্টরপন্থীরা এই চুক্তির সফলতা চায় না। ফলে আলোচনায় নানা বাধা আসতে পারে।

ইরানও যদি অতিরিক্ত দাবিদাওয়া তোলে, তাহলে অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে যা তাদের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করতে পারত।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: হাজারো প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করা যুদ্ধের চেয়ে এই সমঝোতা অনেক ভালো বিকল্প।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গ্রহণযোগ্য পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে এবং উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে যেতে পারে।

তবে সেই সম্ভাবনার সামনে এখনও রয়েছে দীর্ঘ, কঠিন এবং অনিশ্চিত এক আলোচনা প্রক্রিয়া।