জলজ চাষে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বে মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ১১তম আওয়ার ওশান সম্মেলন (১৬-১৮ জুন) কেনিয়ার মোম্বাসা ও কিলফি কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘আওয়ার ওশান সম্মেলন’। সম্মেলনের প্রধান ফোকাস হলো সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, টেকসই মৎস্য আহরণ, সামুদ্রিক দূষণ এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি নিয়ে আলোচনা ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি গ্রহণ।
জাতিসংঘের ফাও (FAO) প্রকাশিত সোফিয়া (State of World Fisheries and Aquaculture)-২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জলজ চাষ থেকে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন টন অতিক্রম করেছে। যা বিশ্বে মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক মৎস্য ও জলজ চাষ খাতের মোট উৎপাদন ২০২৪ সালে রেকর্ড ২৩৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১৯৫ মিলিয়ন টন ছিল জলজ প্রাণী। ফলে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
জলজ চাষে নতুন মাইলফলক
২০২৪ সালে জলজ চাষ থেকে জলজ প্রাণীর উৎপাদন দাঁড়ায় ১০৩ মিলিয়ন টন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত জলজ প্রাণীর ৫৯ শতাংশের বেশি সরবরাহ করছে জলজ চাষ। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক উৎসের মাছ ধরার উৎপাদন স্থিতিশীল। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে এ খাতের উৎপাদন ৮৬ থেকে ৯৪ মিলিয়ন টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
কোটি মানুষের পুষ্টি ও জীবিকার উৎস
বর্তমানে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর ৮৯ শতাংশ মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের প্রায় ৩.১ বিলিয়ন মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের অন্তত ২০ শতাংশ আসে মাছ ও অন্যান্য জলজ খাদ্য থেকে। এছাড়া এই খাত বিশ্বব্যাপী ৬০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জীবিকা সমর্থন করছে।
আফ্রিকায় বৈষম্য স্পষ্ট
প্রতিবেদন বলছে, জলজ খাদ্যের প্রাপ্যতা বিশ্বজুড়ে সমান নয়। ২০২৩ সালে এশিয়ায় মাথাপিছু জলজ খাদ্যের প্রাপ্যতা ছিল ২৬.৩ কেজি, যেখানে আফ্রিকায় তা মাত্র ৯.১ কেজি। এ কারণে ফাও লক্ষ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোও সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয়, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন মৎস্য ও জলজ চাষ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, উচ্চ মাত্রার কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আহরণযোগ্য ফিস বায়োমাস ১০ শতাংশের বেশি কমে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রেকর্ড
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীভিত্তিক পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য মূল্য পৌঁছেছে ১৮৪ বিলিয়ন ডলারে, যা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মাংস বাণিজ্যের সমপর্যায়ে রয়েছে। ১৯৭৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ খাতের রপ্তানি মূল্য ২৩ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য হয়।
ফাও-এর মহাপরিচালক কিউ ডং ইউ বলেছেন, "আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি স্পষ্ট যে একটি সুস্থ পৃথিবীর জন্য সুস্থ মহাসাগর এবং সুস্থ অভ্যন্তরীণ জলাশয় অপরিহার্য । ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই খাতের সম্ভাবনা ধরে রাখতে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন অপরিহার্য।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে বিশ্বে মোট জলজ প্রাণী উৎপাদন ২১৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
