ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে তেল পাচার

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে পাকিস্তান সীমান্তে তেল পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে পেট্রোল ও ডিজেল বহন করে পাচারকারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ করছে।
১৭ জুন বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল চোরাচালানের নেটওয়ার্ক বহু বছরের পুরোনো হলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় পাকিস্তানে ইরানি জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে।
বেলুচিস্তান অঞ্চলের বহু মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা সীমান্ত এলাকা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিভিন্ন বাজার ও অননুমোদিত পেট্রোল স্টেশনে পৌঁছে দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচণ্ড গরমে জ্বালানি বহনকারী প্লাস্টিক কন্টেইনার ফুলে ওঠে, ফলে যেকোনো সময় আগুন বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। অতীতে এমন ঘটনায় বহু পাচারকারীর প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সংঘাতও তাদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।
স্থানীয় এক পাচারকারী বিবিসিকে জানান, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবেই তারা এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কঠিন আবহাওয়া ও বিপদের মধ্যেও জীবিকার তাগিদে তাদের দিন-রাত সড়কেই কাটাতে হয়।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী জ্বালানি পাচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক শিক্ষিত যুবকও এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন।
২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রতি বছর ইরান থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি অবৈধভাবে পাকিস্তানে প্রবেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকার ভৌগোলিক জটিলতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে এই চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
