জাতীয়

একই নম্বরে দুই চিঠি, নতুন বিতর্কে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি

৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৬:৩৮ PM
একই নম্বরে দুই চিঠি, নতুন বিতর্কে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি

২৪ঘণ্টা অনলাইন : চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একই দিনে একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে জারি করা দুটি পৃথক চিঠি এ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গত ৪ জুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে জারি করা চিঠি দুটিতে ভিন্নধর্মী নির্দেশনা দেওয়া হয়। একটি চিঠিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অথবা আগ্রহ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। অন্যদিকে একই দিনের আরেকটি চিঠিতে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দুই চিঠির এমন ভিন্ন বার্তা সামনে আসার পর বন্দর অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

তাদের দাবি, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা নয়, বরং একটি সফল, লাভজনক ও সচল টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন তারা। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বে-টার্মিনাল কিংবা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ক্ষেত্রে তারা আপত্তি জানাননি। কিন্তু এনসিটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এছাড়া বন্দরের ১৮টি কি-গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এনসিটির পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের একটি বড় অংশের কার্যক্রম বিদেশি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে বিষয়টি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দুই চিঠির পর আবারও আলোচনায় এসেছে এনসিটির ভবিষ্যৎ।

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সাম্প্রতিক দুটি চিঠি তাদের বিস্মিত করেছে। তার মতে, আন্দোলনের মুখে আগের সরকার এ উদ্যোগ থেকে সরে এলেও এখন কেন বিষয়টি নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, এনসিটি দেশের কনটেইনার পরিবহনের বড় অংশ পরিচালনা করে এবং এর আয়ও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত এই টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই এটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন
আমাদের অনুসরণ করুন Facebook YouTube X Instagram