হরমুজ সংকটে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে

২৪ঘণ্টা অনলাইন : হরমুজ প্রণালীতে চলমান অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বিশ্ব গভীর খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত রোম নিউট্রিশন উইক ২০২৬-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এফএও মহাপরিচালক কু দংইউ এ সতর্কবার্তা দেন। অনুষ্ঠানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ , বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সভাপতি আলভারো লারিও উপস্থিত ছিলেন।
কু দংইউ বলেন, বর্তমানে বিশ্ব শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি নয়; এটি বৈশ্বিক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার ওপর একটি পদ্ধতিগত আঘাত। তাঁর মতে, সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে। কম সার ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা কম ফসল উৎপাদন করলে এর প্রভাব বিশ্ব খাদ্য বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এফএওর মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সালফার এবং সারের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, সারের সরবরাহে আকস্মিক ঘাটতিতে প্রথমে উৎপাদন কমাবে। তাছাড়া প্রধান খাদ্যশস্যের প্রোটিন ও অণুপুষ্টির মাত্রাও কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে মাটির উর্বরতা হ্রাস পেলে ফল ও শাকসবজির উৎপাদন কমে যাবে। যা পুষ্টিকর খাদ্যকে আরও ব্যয়বহুল ও দুষ্প্রাপ্য করে তুলবে। কু দংইউ বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হবে যখন পুষ্টিকর খাদ্য সহজলভ্য, সহজপ্রাপ্য এবং সাশ্রয়ী হবে। সরবরাহে আকস্মিক ঘাটতির মধ্যেও আমাদের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার পুষ্টিগত অখণ্ডতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এফএওর আশঙ্কা, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক আমদানিনির্ভর দেশ এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ এসব দেশ ইতোমধ্যে ঋণ সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সংঘাত এবং সীমিত সরকারি অর্থায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এফএও কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি উপকরণ ও সারের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এড়ানো, অভিযোজনভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। মহাপরিচালক কু দংইউ বলেন, “আমাদের হাতে এখনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর ও সার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
