সেক্স এডুকেশন-এর সঠিক বয়স জেনে নিন

২৪ঘণ্টা অনলাইন : সোহা নিজেও একজন মা। তাঁর কন্যার ইনায়া নাওমি খেমুর বয়স মাত্র ৮ বছর। আর পাঁচটা সাধারণ মায়ের মতোই তাঁর মনেও নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে।
সেক্স বা যৌনতা— মাত্র তিন অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু আমাদের সমাজে এটিই সবচেয়ে ভীতিজনক। সম্প্রতি নিজের পডকাস্টে লেখিকা তথা সেক্সুয়ালিটি এডুকেটর অঞ্জু কিশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সোহা। সেখানেই তিনি জানতে চান কখন, কী ভাবে এবং কোন বয়সে সন্তানকে যৌনশিক্ষা দেওয়া উচিত। এই বিষয়টি নিয়ে এখনও বহু অভিভাবকের মনে জড়তা এবং সংশয় কাজ করে। এই ট্যাবু ভাঙতেই নিজের নতুন পডকাস্টে যৌনশিক্ষা নিয়ে আলোচনা করলেন অভিনেত্রী সোহা আলি খান।
সোহা নিজেও একজন মা। তাঁর কন্যার ইনায়া নাওমি খেমুর বয়স মাত্র ৮ বছর। আর পাঁচটা সাধারণ মায়ের মতোই সোহার মনেও এই বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ছিল। ইনায়ার প্রসঙ্গ টেনে সোহা জানতে চান, এই বয়সের মধ্যে সন্তানদের কোন কোন বিষয়গুলো স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া উচিত? এবং বয়স অনুযায়ী এই শিক্ষার রূপরেখা কেমন হওয়া দরকার?
আলোচনার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ অঞ্জু কিশ একটি বড় ভুল ধারণা ভেঙে দেন। তিনি বলেন, একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত যৌনশিক্ষার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কোনও যোগাযোগই থাকে না। গাড়ি চালানোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, গাড়ি ড্রাইভ করতে গেলে শুধু মেকানিজ়ম জানলেই চলে না, দায়িত্ববোধ এবং সড়ক সুরক্ষা বা রোড সেফটিও জানতে হয়।
সেক্স এডুকেশনের পরিধি আসলে অনেক বড়। এর মধ্যে রয়েছে, নিজের শরীরকে চেনা এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক নাম জানা। গুড টাচ ও ব্যাড টাচ বা নিরাপদ এবং বিপজ্জনক স্পর্শের ফারাক বোঝা। বয়ঃসন্ধি, ক্রাশ বা ভালোলাগা এবং মন ভাঙার মতো পরিস্থিতিকে দায়িত্বের সঙ্গে সামলানো।
প্রেশার (সহপাঠী বা বন্ধুদের চাপ), ডেটিং, সম্মতি এবং নিজস্ব সীমানা নির্ধারণ করা। পর্নোগ্রাফি, সেক্সটিং এবং ইন্টারনেটের দুনিয়ায় কী ভাবে নিরাপদ থাকা যায়, তা জানা।
বয়স অনুযায়ী সেক্স এডুকেশন ম্যাপিং
অঞ্জু কিশের মতে, শিশুর জন্মের পর থেকেই ছোট ছোট আলোচনার মাধ্যমে এই শিক্ষার ভিত তৈরি করা উচিত। তা না হলে শিশুরা ইন্টারনেটের গোলকধাঁধায় ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হতে পারে। বাবা-মায়েদের সুবিধার্থে তিনি বয়স অনুযায়ী একটি গাইডলাইন বা চার্ট তুলে ধরেছেন--
০ থেকে ৩ বছর: নিজের শরীরের সমস্ত অঙ্গের (জননাঙ্গ সহ) সঠিক, বৈজ্ঞানিক নাম জানা এবং প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার ধারণা তৈরি করা।
৪ থেকে ৬ বছর : শরীরের নিরাপত্তা, সাধারণ সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শের প্রাথমিক পাঠ।
৬ থেকে ৮ বছর : বিপজ্জনক স্পর্শ, জিজ্ঞেস করে স্পর্শ এবং গোপন স্পর্শ চিনতে শেখা। এমনটা হলে কী করতে হবে, তা শেখানো।
৯ থেকে ১২ বছর : বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টির সময়ে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো এবং সেক্স আসলে কী, তা সংক্ষেপে ব্যাখা করা।
১৩ থেকে ১৫ বছর : যৌনতার গভীর পাঠ— হস্তমৈথুন, পর্নোগ্রাফি ও তার কুপ্রভাব, ডেটিং, গর্ভনিরোধক, যৌনবাহিত রোগ এবং ভারতের পকসো আইন ও ডেটিং সংক্রান্ত আইনি সচেতনতা।
১৬ থেকে ১৮ বছর : প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রত্যাশা বা অভিজ্ঞতা হতে পারে তা জানানো। নিরাপদ যৌনতা, গর্ভনিরোধকের প্রকারভেদ ও এসটিআই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
১৮+ বছর : প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সম্মতি, লিঙ্গ সচেতনতা, যৌনতা এবং ইনক্লুসিভিটি বা অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা।
জেন জি-দের পছন্দের ডেটিং ট্রেন্ড এখন ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং, কী সেটা?
যে হেতু সোহার কন্যা রয়েছে তাই বিশেষজ্ঞদের কাছে তিনি জানতে চান কী ভাবে শিশুদের মনে ভয় না জাগিয়ে অত্যন্ত সহজভাবে পিরিয়ডস বা ঋতুস্রাবের কথা বলা যায়। গল্পের ছলে অঞ্জু বলেন, প্রতিটি মেয়ের শরীরের ভিতরে একটি বেবি ব্যাগ (গর্ভাশয়) থাকে। এই ব্যাগটি ভবিষ্যতের জন্য, যখন সে বড় হবে এবং তার নিজের সন্তান হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এই ব্যাগটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। তাই প্রতি মাসে এই ব্যাগটি একটি ডিম্বাণুর সুরক্ষার জন্য নিজের ভিতরে একটি নরম ও ঘন আস্তরণ তৈরি করে। কিন্তু যখন কোনও বাচ্চা তৈরি হয় না, তখন সেই আস্তরণটির আর প্রয়োজন থাকে না। আর সেটাই শরীর থেকে তরল আকারে বেরিয়ে আসে, যা মেয়েদের পিরিয়ডস।
তিনি আরও যোগ করেন, সন্তানদের এটাও জানানো উচিত যে পিরিয়ডসের অভিজ্ঞতা সকলের এক নয়। কারও ক্ষেত্রে এটি যন্ত্রণাদায়ক বা ক্র্যাম্পযুক্ত হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক ও সহজ হতে পারে। স্কুল স্তরে কেন যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং কী ভাবে বাবা-মায়েরা এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে সন্তানদের সঙ্গে সুস্থ আলোচনা শুরু করতে পারেন, এই পডকাস্টের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সোহা।
