বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ, পিসিএতে প্রথম ধাপ সম্পন্ন

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)-এর প্রাথমিক সংস্করণে সই করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলস-এ ইইউর কূটনৈতিক দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে এই চুক্তিতে সই হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইইউর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাস। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা চুক্তিটিকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পরিচিত ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পিসিএ চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন, যা রাজনৈতিক সংলাপ থেকে শুরু করে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সুশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়াবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একাধিক দফা আলোচনার পর চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে বাংলাদেশ এই চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছানোয় এটিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে হলে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সই হবে, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, পিসিএ চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপের আলোচনার মধ্য দিয়ে চুক্তিটি বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
পিসিএ মূলত একটি আইনগত কাঠামো, যা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
